ফাঁসির দাবী চালিয়ে যাওয়ার শপথের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হল মহাসমাবেশ


রাজধানীর শাহবাগে আজ মহাসমাবেশে নেমেছিল লাখো মানুষের ঢল। মহাসমাবেশ শেষ হলেও জনসমুদ্রের ঢেউ মিলিয়ে যায়নি। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল থেকে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে রাত। শাহবাগে মানুষের ভিড় এতটুকু কমেনি। কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি এবং সব যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে তারুণ্য। লড়াই চলবে। কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার শপথ নিয়েছেন লাখো জনতা। মহাসমাবেশের মঞ্চে আজ কোনো রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য দেননি। কোনো রাজনৈতিক ব্যানারও ছিল না।
মহাসমাবেশে আজ সবার কণ্ঠে ছিল একই ধ্বনি: ‘কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীকে ফাঁসি দিতে হবে’, ‘রাজাকার ও জামায়াত-শিবিরকে না বলুন’, ‘যুদ্ধাপরাধের রায় নিয়ে আঁতাত ও আপসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।’ আজ শুক্রবার বেলা তিনটায় শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসমাবেশ শুরু হয়। শাহবাগসহ আশপাশের গোটা এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল যায় শাহবাগের দিকে।
মহাসমাবেশে আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে যোগ দেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠনও এতে সমর্থন জানায়। 
সমাবেশে যোগ দেন দেশের বরেণ্য শিল্পী, সাংস্কৃতিক-সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশস্থলে সংহতি জানিয়েছেন তেল-গ্যাস, বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবীসহ আরও অনেকে ।
আজ ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে জড়ো হতে থাকেন শাহবাগ চত্বরে। সকাল নয়টা থেকে সেখানে নামে মানুষের ঢল। ১০টা থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান ব্যানার নিয়ে সমাবেশস্থলে আসে। ছিল কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। অনেকের গায়ে লাল-সবুজের পতাকা রঙের পোশাক, কপালে লেখা বাংলাদেশ। বুকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি। সমাবেশ ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর, রমনা পার্ক, এলিফ্যান্ট রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত। বেলা একটায় জুমার নামাজের বিরতি দিয়ে বেলা দুইটা থেকে আন্দোলন আবার শুরু হয়। আন্দোলন এখনো চলছে।

Comments

Popular posts from this blog

যুদ্ধাপরাধের বিচার: জাতি কি এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল?

ঈদের পর নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, জামায়াতের হরতাল