মঞ্চ প্রস্তুত, আর কিছু সময় পরই শুরু হবে মহাসমাবেশ।


বিকাল ৩টায় মহাসমাবেশ সামনে রেখে প্রজন্ম চত্বরে একটি ছোট ট্রাকে তৈরি হয়েছে সমাবেশের মুলমঞ্চ। আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ের নাম দিয়েছেন ‘প্রজন্ম চত্বর’।
সকাল থেকে রাজধানী এবং এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকঢোল নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল আর বিভিন্ন বাহনে করে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হচ্ছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। বেলা ১টা নাগাদ জমায়েতের চৌহদ্দী ছাড়িয়ে গেছে কাঁটাবন থেকে শিশুপার্ক, বিএসএমএমইউ থেকে চারুকলা অনুষদ পর্যন্ত।  










বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মানুষের অংশগ্রহণ, শ্লোগানের কণ্ঠ।
বিক্ষোভের মুলমঞ্চ থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় জামায়াত-শিবিরের মিছিল-সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা আসে।
ঘোষণায় বলা হয়, “শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে জামায়াত শিবির মিছিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বন্ধুরা আজ জামায়াত-শিবির মিছিল করলে আমরা তাদের গণধোলাই দেব।”
এ সময় সমাবেশের সমর্থন চাওয়া হলে সবাই সমস্বরে ‘গণধোলাই, গণধোলাই’ বলে চিৎকার করে ওঠে।
এর কিছুক্ষণ পরেই দেশের বিভিন্ন জেলায় শহীদ মিনারে প্রতিবাদী মানুষের অবস্থান কর্মসূচির কথা জানানো হয়। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে জনতা।
রাজধানী ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসা মানুষের হাতে দেখা যায় ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। অনেকে এসেছেন জাতীয় পতাকা নিয়ে।
মুক্তিযোদ্ধারা এসেছেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের লাল পতাকা নিয়ে। প্রতিটি মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করলে আশপাশের সহযোদ্ধারা তাদের তুমুল করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানাচ্ছে।
ছুটির দিনে অনেকেই শাহবাগে এই সমাবেশে যোগ দিতে এসেছেন তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে।
চারুকলার শিক্ষার্র্থীরা রঙ-তুলি হাতে ছড়িয়ে রয়েছেন বিভিন্ন স্থানে। তারা কপালে-গালে এঁকে দিচ্ছেন লাল-সবুজে জাতীয় পতাকা। অনেক তরুণ বুকে-পিঠে ‘যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই’ লিখিয়ে যোগ দিচ্ছেন সমাবেশে।
সকাল থেকে সমাবেশে সংহতি জানিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংক পরিবার, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী পরিষদ, জেডিএইচ শিকদার মেডিকেল কলেজ পরিবার, জনতা ব্যাংক অফিসার্স ক্লাব।









মুলমঞ্চ থেকে সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে স্লোগান- ‘দড়ি ধরে দেব টান/ ফাঁসি দিয়ে নেব জান’, ‘নিজামী-মুজাহিদ ভাই ভাই/ এক রশিতে ফাঁসি চাই’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার/রক্ত চোষা জানোয়ার’, ‘এমন রায়ে কাঁদছে চোখ/আমার না হয় ফাঁসি হোক’, ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই/কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়/কাদের মোল্লার ঠাঁই নাই’, ‘কাদের মোল্লার কবর হবে/পাকিস্তানের মাটিতে’।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বারডেম হাসপাতালের সামনে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছে। আর সমাবেশে আগতদের জন্য শাহবাগ এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে ঢাকা ওয়াসা।
কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার রায় প্রত্যাখ্যান করে মঙ্গলবার বিকালে শাহবাগ মোড়ে এই বিক্ষোভের সূচনা করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম। এরপর বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা এতে যোগ দেয়। সকাল-দুপুর-রাত বিরামহীন চলছে এই অবস্থান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমাবেশ বিশাল আকার ধারণ করে, রাতভর স্লোগান, কবিতা, গানের সঙ্গে রাতের খাবারের ব্যবস্থাও ছিল বিভিন্ন উদ্যোগে।
বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরাও দল বেঁধে যোগ দিয়েছে শাহবাগের কর্মসূচিতে। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও এসেছেন।










তাদের প্রায় সবার মাথা আর হাতে লাল-সবুজ পতাকা। আর মুখে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি।
বৃহস্পতিবার শাহবাগে এসে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহাবুব-উল আলম হানিফ।
বিক্ষোভে বক্তব্য না দিয়েই ফিরতে হয় তাকে, যদিও এর আগে তার দলেরও অনেক নেতা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দিয়ে গিয়েছিলেন।
হানিফের চলে যাওয়ার পর কর্মসূচির মূল মঞ্চ থেকে ঘোষণা আসে, শুক্রবার বিকাল ৩টার মহাসমাবেশে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বক্তব্য রাখতে পারবেন না। কোনো দলের ব্যানার নিয়েও আসা যাবে না।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবে আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠা শাহবাগ ছেড়ে যাবেন না। শাহবাগের এই আন্দোলনের সঙ্গে মিল রেখে সারাদেশে একই ধরনের কর্মসূচি চলছে।

Comments

Popular posts from this blog

যুদ্ধাপরাধের বিচার: জাতি কি এই রায়ের জন্য অপেক্ষা করেছিল?

ঈদের পর নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল, জামায়াতের হরতাল